ব্রাহ্মণ্য হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের কবলে পশ্চিম বঙ্গও
ব্রাহ্মণ্য হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের কবলে পশ্চিম বঙ্গও
আন্দোলন প্রতিবেদন
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ
ভারতের পশ্চিম বঙ্গসহ কয়েকটি প্রদেশে বিধান সভার নির্বাচন হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায় যে, অন্য কিছু প্রদেশে যা-ই ঘটুক, কিন্তু পশ্চিম বঙ্গে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি জয়লাভ করেছে। এটা প্রমাণ করছে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছে, শাসকশ্রেণি নিজেদের আর্থিক-রাজনৈতিক সমূহ সংকটকে ধামাচাপা দেবার জন্য ধর্মবাদ/ফ্যাসিবাদকে আশ্রয় করছে। মমতার পরাজয়ের বহুবিধ কারণ রয়েছে। প্রথমত, বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির প্রতিক্রিয়াশীল একটি দল হিসেবে একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় তার প্রকৃত চরিত্র জনগণের নিকট অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে, ফলে তার ভোট অনেক কমে গেছে। বিশেষত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নারী প্রশ্নে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভূমিকার কারণে তৃণমূল ব্যাপক জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর সুযোগ গ্রহণ করে সুচতুর ও সুসংহত ধর্মবাদী আরএসএস ও বিজেপি। যদিও বিজেপি’র বিজয়ে তাদের কেন্দ্রীয় ক্ষমতার জোরে ষড়যন্ত্রও বিরাট ভূমিকা রেখেছে। বিশেষত কয়েক নিযুত মুসলিম ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরাট মোতায়েনের মাধ্যমে ভোট কারচুপির সুযোগ তারা নিয়েছে। কৌশলের ক্ষেত্রে তৃণমূল সেখানে ও সমগ্র ভারত-বর্ষ ব্যাপী ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচনি-জোট গঠনেও ব্যর্থতা দেখিয়েছে। যার জন্য কি না পরাজয়ের পর মমতা ডাক দিয়েছে। বুর্জোয়া পার্টিগুলোর কেউ এখনো তাতে সাড়া দেয়নি। ট্রেন চলে গেছে। ভারতে ও পশ্চিম বঙ্গে ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের বর্ধিত বিপদকে মমতাসহ এ বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীলরা বুঝতে পারেনি।
ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের এ বিজয় গণবিরোধী সন্ত্রাস বৃদ্ধি করবে এবং আমাদের দেশেও তার কিছু বিরূপ প্রভাব পড়বে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই রাজ্যের বহু জায়গায় বিজেপি-বিরোধীদের উপর আক্রমণ, এমনকি হত্যাকাণ্ড থেকে বোঝা যায় আগামীতে কী ঘটতে যাচ্ছে। ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ বিপরীত ধমর্ীয় রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করে। এটা পশ্চিম বঙ্গেও ঘটবে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। আমাদের দেশে এমননিতেই ধর্মবাদী রাজনীতি এখন শক্তিশালী হয়েছে, যা আরো পানি পাবে। এটা এক অশনি সংকেত।
এছাড়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শক্তিশালী হবে। কারণ, আসাম, ত্রিপুরা ও এখন পশ্চিম বঙ্গ– বাংলাদেশের চারিদিকে এভাবে বিজেপি ঘেরাওয়ের চাপ বিভিন্নভাবে দেশকে বিপদে ফেলবে। পাল্টা-ধর্মবাদের বিকাশ এ বিপদকে বাড়াবে মাত্র।
তাই, আমাদের দেশ, ভারত-বর্ষ ও সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ফ্যাসিবাদ, বিশেষত ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের বিকাশ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে এবং এ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ব্রাহ্মণ্য হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের কবলে পশ্চিম বঙ্গও
ভারতের পশ্চিম বঙ্গসহ কয়েকটি প্রদেশে বিধান সভার নির্বাচন হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায় যে, অন্য কিছু প্রদেশে যা-ই ঘটুক, কিন্তু পশ্চিম বঙ্গে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি জয়লাভ করেছে। এটা প্রমাণ করছে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছে, শাসকশ্রেণি নিজেদের আর্থিক-রাজনৈতিক সমূহ সংকটকে ধামাচাপা দেবার জন্য ধর্মবাদ/ফ্যাসিবাদকে আশ্রয় করছে। মমতার পরাজয়ের বহুবিধ কারণ রয়েছে। প্রথমত, বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির প্রতিক্রিয়াশীল একটি দল হিসেবে একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় তার প্রকৃত চরিত্র জনগণের নিকট অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে, ফলে তার ভোট অনেক কমে গেছে। বিশেষত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নারী প্রশ্নে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভূমিকার কারণে তৃণমূল ব্যাপক জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর সুযোগ গ্রহণ করে সুচতুর ও সুসংহত ধর্মবাদী আরএসএস ও বিজেপি। যদিও বিজেপি’র বিজয়ে তাদের কেন্দ্রীয় ক্ষমতার জোরে ষড়যন্ত্রও বিরাট ভূমিকা রেখেছে। বিশেষত কয়েক নিযুত মুসলিম ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরাট মোতায়েনের মাধ্যমে ভোট কারচুপির সুযোগ তারা নিয়েছে। কৌশলের ক্ষেত্রে তৃণমূল সেখানে ও সমগ্র ভারত-বর্ষ ব্যাপী ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচনি-জোট গঠনেও ব্যর্থতা দেখিয়েছে। যার জন্য কি না পরাজয়ের পর মমতা ডাক দিয়েছে। বুর্জোয়া পার্টিগুলোর কেউ এখনো তাতে সাড়া দেয়নি। ট্রেন চলে গেছে। ভারতে ও পশ্চিম বঙ্গে ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের বর্ধিত বিপদকে মমতাসহ এ বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীলরা বুঝতে পারেনি।
ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের এ বিজয় গণবিরোধী সন্ত্রাস বৃদ্ধি করবে এবং আমাদের দেশেও তার কিছু বিরূপ প্রভাব পড়বে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই রাজ্যের বহু জায়গায় বিজেপি-বিরোধীদের উপর আক্রমণ, এমনকি হত্যাকাণ্ড থেকে বোঝা যায় আগামীতে কী ঘটতে যাচ্ছে। ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ বিপরীত ধমর্ীয় রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করে। এটা পশ্চিম বঙ্গেও ঘটবে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। আমাদের দেশে এমননিতেই ধর্মবাদী রাজনীতি এখন শক্তিশালী হয়েছে, যা আরো পানি পাবে। এটা এক অশনি সংকেত।
এছাড়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শক্তিশালী হবে। কারণ, আসাম, ত্রিপুরা ও এখন পশ্চিম বঙ্গ– বাংলাদেশের চারিদিকে এভাবে বিজেপি ঘেরাওয়ের চাপ বিভিন্নভাবে দেশকে বিপদে ফেলবে। পাল্টা-ধর্মবাদের বিকাশ এ বিপদকে বাড়াবে মাত্র।
তাই, আমাদের দেশ, ভারত-বর্ষ ও সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ফ্যাসিবাদ, বিশেষত ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের বিকাশ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে এবং এ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে হবে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র